প্রাণভিক্ষার আবেদন করেও মুক্তি পেলেন না, ইরানি রেসলারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

ইরানি রেসলার

ইরানের প্রধান ধর্মীয় নেতার কাছে তার প্রাণভিক্ষা চেয়েছিলেন আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) সভাপতি টমাস বাখ। তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না করার জন্য ইরানের নেতাদের অনুরোধ করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে ইরানকে বিশ্ব ক্রীড়া থেকে বহিষ্কারের দাবি জানায় সারাবিশ্বের ৮৫ হাজার রেসলার।

তবু শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ২৭ বছর বয়সী রেসলার (কুস্তিগীর) নাভিদ আফকারির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলো দক্ষিণ ইরানের এক জেলখানায়। সরকারবিরোধী প্রতিবাদ চলাকালে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের শহর শিরাজে এক সরকারি কর্মচারীকে ছুরিকাঘাতে খুন করার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় তাকে।

আফকারির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় ব্যথিত আইওসি বলেছে, ‘এটা গভীর এক শোক সংবাদ। এই ঘোষণায় আইওসি শোকাহত।’ শোকবার্তায় টমাস বাখ আরও বলেছেন, ‘এটা খুবই হতাশার যে সারাবিশ্বের ক্রীড়াবিদদের আবেদন, পেছন থেকে আইওসি, ইরানের অলিম্পিক কমিটি, বিশ্ব রেসলিং এবং ইরানিয়ান রেসলিং ফেডারেশনের প্রচেষ্টা স্বত্ত্বেও আমাদের লক্ষ্য পূরণ হলো না। নাভিদ আকফারির পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের জন্য আমাদের সমবেদনা।’

সংবাদ সংস্থা এএফপি জানায়, ২০১৮ সালের ২ আগস্ট শিরাজে হোসেন তুর্কমেন নামের এক সরকারি পানি উন্নয়ন কর্মীকে ছুরিকাঘাতে খুন করেন আফকারি। সেখানে তখন চলছিল সরকার বিরোধী প্রতিবাদ বিক্ষোভ। শিরাজসহ ইরানের আরও কিছু শহরে সেদিন একযোগে মন্দা অর্থনীতির কারণে ভোগান্তি নিয়ে প্রতিবাদে শামিল হয়েছিল সাধারণ মানুষ।

আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আফকারি ও তার পরিবার দাবি করেছে তাকে জেলে নির্যাতন করে খুনের মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছে। আইনজীবীর দাবি, তার অপরাধের কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ইরানি বিচার বিভাগ অবশ্য নির্যাতন করে স্বীকারোক্তি আদায়ের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। সরকার বিরোধী বিক্ষোভে শামিল হওয়া আফকারির অন্য দুই ভাইকে কারাদণ্ড দিয়েছে শিরাজের প্রাদেশিক আদালত।

ভাহিদ আকফারির জেল হয়েছে ৫৪ বছর, হাবিব আকফারির ২৭ বছর। আকফারির আইনজীবী হাসান ইউনেসি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার আগে পরিবারের কারো সঙ্গে তাকে শেষ দেখা করতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন। ইরানে রেসলিং খুবই জনপ্রিয় খেলা। এ পর্যন্ত ৪৩টি অলিম্পিক পদক জিতেছে ইরান। নাভিদ আফকারি ছিলেন একজন জাতীয় চ্যাম্পিয়ন ছিলেন।

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
https://bangladeshdawn.com/author/202006131592032