তাইওয়ানের উপহার নেওয়ায় চীনের হতাশা প্রকাশ

১০৭
বাংলাদেশ-চীন

বাংলাদেশের তিন জন মন্ত্রী ও তিন জন সচিবের উপস্থিতিতে তাইওয়ানের কাছ থেকে কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় মেডিকেল সামগ্রী উপহার হিসাবে গ্রহণ করায় ‘হতাশা’ প্রকাশ করেছে চীন।

সোমবার (৩১ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক চিঠির মাধ্যমে এই হতাশা প্রকাশ করে চীনের দূতাবাস। চিঠিতে বাংলাদেশ ও চীনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অনেক গভীর জানিয়ে দূতাবাসের পক্ষ থেকে তাইওয়ানের সঙ্গে ‘অনানুষ্ঠানিক (আনঅফিসিয়াল)’ সম্পর্ক রাখার বিষয় উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘তারা চিঠি দিয়ে এবং টেলিফোনের মাধ্যমে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চেয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে তাদেরকে আশ্বস্ত করা হয়েছে বাংলাদেশ ওয়ান চায়না নীতিতে বিশ্বাস করে।’

বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ক্ষেত্রে যেকোনও সরকারি কর্মকর্তাদের তাইওয়ান, কাশ্মির, দালাই লামা, তিব্বত- এই শব্দগুলি উচ্চারণ করার আগে চিন্তা করা দরকার এর প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে।’

এর আগে গত ২৪ আগস্ট বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুনশি, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের মন্ত্রী মোস্তফা জব্বারের উপস্থিতিতে তাইওয়ান এক্সটার্নাল ট্রেড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার এই মেডিক্যাল সামগ্রী দেয়।

এছাড়া ওই অনুষ্ঠানে বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. আব্দুল মান্নান, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মো. নূর-উর-রহমান বক্তব্য রাখেন। তাইওয়ান এক্সটার্নাল ট্রেড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার এক লাখ সার্জিক্যাল মাস্ক, ১৬০০ এ-৯৫ মাস্ক, ২০ হাজার কাপড়ের মাস্ক, ১০ হাজার ফেস ফিল্ড, ৫০০ পিপিই (ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী), ২০০ গগলস এবং দুই সেট ভেন্টিলেটর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করে।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘উপহার নেওয়ার বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। এ বিষয়ে করনীয় কী সেটির জন্য আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। যাতে করে এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে এড়িয়ে চলার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়।’

এর আগে গত সপ্তাহে বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুনশি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তাইওয়ানের কাছ থেকে উপহার নেওয়ার বিষয়টি মধ্যস্থতা করেছে ওয়ালটন এবং তাদের মাধ্যমে এটি এসেছে। এটি একটি খুব সাধারণ একটি উপহার। এটির সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এটি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কোনও অস্বস্তি হবে না।’ প্রসঙ্গত, চীন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার এবং পদ্মা সেতুসহ বেশকিছু বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে বেইজিংয়ের সহায়তায়। এছাড়া কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় মেডিক্যাল টিম পাঠানোসহ বিভিন্ন সামগ্রী দিয়েছে সহোযোগিতা করছে চীন।

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
https://bangladeshdawn.com/author/202006131592032