বিচ্ছেদের টানাপোড়েনে মেসি ও বার্সেলোনা

৯৬
মেসি

লিওনেল মেসির ক্লাব ছাড়ার সিদ্ধান্তে কেঁপে উঠেছে ফুটবল বিশ্ব। কোটি কোটি বার্সেলোনা-সমর্থকের হৃদয় ভেঙে প্রিয় ক্লাবের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদের চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। মেসির হাত ধরেই নবযুগের সূচনা হয়েছিল কাতালান ক্লাবটির।

এ ক্লাবে খেলেই কয়েকশ গোলের পাশাপাশি অসংখ্য রেকর্ডের মালিক হয়েছেন তিনি। কিন্তু হঠাৎ কেন এমন সিদ্ধান্ত? আর বার্সেলোনা ছেড়ে তিনি যাবেন-ই-বা কোথায়? লিখেছেন পরাগ মাঝি।

ক্লাব ছাড়ার নেপথ্যে: কাতালান ক্লাব বার্সেলোনা ছেড়ে দিচ্ছেন মেসি-এমন গুঞ্জন এর আগেও বহুবার শোনা গেছে। প্রতিবারই গুঞ্জনে জল ঢেলে দিয়েছেন মেসি নিজেই। দীর্ঘ দুই দশকের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কে মেসি আর বার্সেলোনা যেন একে অপরের সমার্থক। কিন্তু এবারের ব্যাপারটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রিয় ক্লাবের সঙ্গে তার সম্পর্কের সুতোটি ছিঁড়ে গেছে প্রায়।

গত ২৫ আগস্ট ক্লাবের উদ্দেশে এক বুরোফ্যাক্স বার্তায় মেসি লেখেন, ‘আমি বার্সেলোনা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। আমাকে এখনই ক্লাব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হোক। ’

ক্লাব ছাড়ার এমন হঠাৎ সিদ্ধান্তে ফুটবল বিশ্বে তোলপাড় শুরু হলেও মেসি-ঘনিষ্ঠরা দাবি করছেন হঠাৎ নয়, বরং অনেক হতাশা থেকেই বার্সেলোনার সঙ্গে সম্পর্ক শেষ করার চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন এই আর্জেন্টাইন সুপারস্টার।

জানা গেছে, চলতি বছরের শুরু থেকেই ক্লাবের সঙ্গে লিও মেসির নানা বিষয়ে মতের অমিল হতে শুরু করে। ক্লাবের প্রাণভোমরা ছিলেন তিনি। তাই ক্লাবের সঙ্গে তার মতের অমিল যে ভালো ফল বয়ে আনবে না এ মৌসুমটি তার জ্বলন্ত প্রমাণ। সম্প্রতি চ্যাম্পিয়নস লিগে জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখের কাছে ৮-২ গোলের ব্যবধানে লজ্জাজনকভাবে হেরেছে বার্সেলোনা।

এ ছাড়া এ বছর একটি শিরোপাও জয় করতে পারেনি ক্লাবটি। এমন শিরোপাবিহীন মৌসুম আরও এক যুগ আগে পাড়ি দিয়েছিল তারা। কারও কারও মতে, নেইমার-পরবর্তী সময় থেকেই বার্সেলোনা কর্তাদের সঙ্গে মেসির ঠোকাঠুকি শুরু হয়।

বিশেষ করে দল গঠন, কোচ বাছাই নিয়ে তার সঙ্গে বারবার মতবিরোধ হয়েছে বার্সা প্রেসিডেন্ট বার্তেমিউয়ের। প্রিয় সাবেক সতীর্থ নেইমারকে আবার বার্সেলোনায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছিলেন মেসি। কিন্তু ক্লাব কর্তৃপক্ষ তার সে ইচ্ছা পূরণ করতে পারেনি। এ ছাড়া তার আপত্তি সত্ত্বেও চলতি বছরের শুরুতেই কোচ আর্নেস্তো ভালভার্দেকে ক্লাবের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

নানা হিসাব মাথায় নিয়েই মেসি বুঝতে পারেন তার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসে গেছে। চাপা ক্ষোভ নিয়েই অনুশীলন এবং ক্লাবের খেলাগুলোতে অংশগ্রহণ করছিলেন তিনি। এই ক্ষোভের আগুনে ঘি পড়ে নতুন কোচের সঙ্গে মতবিরোধের সূত্র ধরে। পরিস্থিতি যারা খুব কাছ থেকে দেখেছেন, তাদের অনেকেই দাবি করছেন, বার্সেলোনার দায়িত্ব নিয়েই নতুন কোচ রোনাল্ড কোম্যান দলের মধ্যে মেসির আধিপত্য ভাঙতে চেয়েছিলেন।

তাই মেসির প্রতি তার নির্দেশ ছিল ‘স্কোয়াডে যেসব বিশেষ সুযোগ-সুবিধা তুমি পেতে, সেসব আর পাবে না। তোমাকে এখন দলের জন্য সবকিছু করতে হবে। আমি এ ব্যাপারে অনড়। তোমাকে সব সময় ক্লাব নিয়েই চিন্তাভাবনা করতে হবে। ’ কোম্যানের এমন নির্দেশ সহজভাবে নিতে পারেননি ৩৩ বছরের আর্জেন্টাইন। তাই মুহূর্তের মধ্যেই ক্লাব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন তিনি। তার ক্লাব ছাড়ার সিদ্ধান্তে নড়েচড়ে বসেছেন বার্সেলোনার কর্তারা। আইনিভাবে এখন মেসিকে আটকানোর চেষ্টা করছেন তারা।

আইনি মারপ্যাঁচ: বার্সেলোনার সঙ্গে মেসির একটি ‘এক্সিট ক্লজ’ চুক্তি রয়েছে। সেই ক্লজ অনুযায়ী, মেসি ২০১৯-২০ মৌসুম শেষে চাইলে কোনো ট্রান্সফার ফি ছাড়াই ফ্রি-তে ক্লাব ছেড়ে দিতে পারবেন। বার্সেলোনার মতে, ‘এক্সিট ক্লজে’র মেয়াদ জুনেই শেষ হয়ে গেছে। তাই এখন যদি কোনো দল তাকে কিনে নিতে চায়, তবে বার্সেলোনাকে ট্রান্সফার ফি বাবদ ৭০০ মিলিয়ন ইউরো বা ৮২৬ মিলিয়ন ডলার দিতে হবে। ট্রান্সফার ফি ছাড়া দলবদল করতে চাইলে মেসিকে ২০২১ সালে পরবর্তী মৌসুম শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

এদিকে মেসির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, মহামারীতে বাধাগ্রস্ত হওয়া মৌসুম যখন শেষ হয়েছে, তখনই ‘এক্সিট ক্লজে’র মেয়াদ শেষ হওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে যুক্তি দেখানো হয়েছে, ফুটবলে স্প্যানিশ মৌসুম সাধারণত মে মাসে শেষ হলেও এবার করোনাভাইরাসের কারণে তা পিছিয়ে আগস্ট মাসে শেষ হয়েছে। এ হিসেবে নতুন মৌসুম শুরু করার আগেই মেসি ক্লাব ছেড়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।

ফলে তার ক্ষেত্রে ট্রান্সফার ফি দেওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। দলবদল প্রশ্নে দুই পক্ষের এই মতভেদ শেষ পর্যন্ত আইনি লড়াইয়ে পরিণত হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ অবস্থায় ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের অনেকেই মনে করছেন বার্সেলোনা ছেড়ে যাওয়ার পথটি মেসির জন্য সুখকর নাও হতে পারে। এ ক্ষেত্রে আলোচনার মাধ্যমে দুই পক্ষ কোনো সমাধানে আসতে না পারলে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শেষ পর্যন্ত যদি আইনি লড়াইয়েই নামতে হয়, দুই পক্ষকে সে ক্ষেত্রে বার্সেলোনা মেসির চেয়ে এগিয়ে থাকবে বলে মনে করেন স্প্যানিশ ক্রীড়া আইনজীবী সান্তিয়াগো নেবত। রয়টার্সের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে স্প্যানিশ সকার প্লেয়ার্স ইউনিয়নের সাবেক পরামর্শক নেবত বলেছেন, ‘আমার মনে হয়, বার্সেলোনা এ ক্ষেত্রে ভালো অবস্থানে রয়েছে, তবে মেসিও বার্সেলোনার দুর্বলতাগুলো দেখিয়ে দিয়েছেন। সে যদি বার্সেলোনার কাছে ফ্রি ট্রান্সফার চায় আর ক্লাব যদি সেটা না দেয়, মেসি কিছুই করতে পারবে না। ’

পরবর্তী গন্তব্য কোথায়: ক্রীড়া সাংবাদিকরা মেসির দলবদলের ক্ষণটিকে লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির ‘মোনালিসা’ চিত্রকর্মের সঙ্গে তুলনা করেছেন। ফ্রান্সের ল্যুভর মিউজিয়াম যদি মোনালিসা চিত্রকর্মটিকে বিক্রি করতে বাজারে তোলে, তবে এটি কেনার জন্য নিশ্চিতভাবেই হুমড়ি খেয়ে পড়বে বিশ্বের নামীদামি অসংখ্য প্রতিষ্ঠান। মেসির ক্ষেত্রেও ব্যাপারটি এমন।

বর্তমান বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় মানা হয় তাকে। তাই কোনো ট্রান্সফার ফি ছাড়াই যদি মেসির দলবদলের সুযোগ থাকে, তবে তাকে কেনার জন্য ক্লাবের অভাব হবে না। যদিও তাকে বেতন-ভাতা দিয়ে পোষার মতো খুব কমসংখ্যক ক্লাবই রয়েছে। ইতিমধ্যেই মেসিকে পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।

তালিকায় আছে নেইমারের ক্লাব পিএসজি-ও। মেসিকে পেতে চায় ইতালিয়ান ক্লাব ইন্টার মিলানও। ইতিমধ্যেই ইউরোপের দলবদলে মেসির দর উঠছে ২০০ মিলিয়ন পাউন্ড, যা রেকর্ড! ইংল্যান্ড, ইতালি নাকি প্যারিস? পরের গন্তব্য কোথায়? তা হয়তো মেসিই জানেন। কিন্তু ইনস্টাগ্রামে ম্যানচেস্টার সিটির ফলোয়ার হয়ে জল্পনা উসকে দিলেন তিনি নিজেই।গত ২৪ আগস্ট ম্যানচেস্টার সিটির ম্যানেজার পেপ গার্দিওলা হাঁক ছেড়েছেন, ‘মেসিকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত ইংল্যান্ড। ’

এদিকে, বার্সেলোনাভিত্তিক ক্রীড়া প্রতিবেদক মার্সেলো বেকলেরও দাবি করেছেন, ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছেন মেসি। ক্লাবটির ম্যানেজার পেপ গার্দিওলার সঙ্গে যোগাযোগও করেছেন তিনি। ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত বার্সেলোনায় মেসি ও তার সতীর্থদের কোচ ছিলেন গার্দিওলা।

জানা গেছে, মেসির পরবর্তী গন্তব্য কোথায় হচ্ছে, তা নিশ্চিত করতে এ সপ্তাহে ইউরোপে পা রাখবেন মেসির বাবা জর্জি মেসি। তিনি মেসির এজেন্টের দায়িত্বও পালন করেন। ধারণা করা হচ্ছে, মেসির পরবর্তী ক্লাব হিসেবে তিনিও ম্যানচেস্টার সিটিকেই এগিয়ে রাখবেন। মেসিকে কেনা এবং তার বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য যথেষ্ট সামর্থ্য রয়েছে ক্লাবটির। আর সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো ইংলিশ এই ক্লাবটিতে গার্দিওলার উপস্থিতি।

তিনি যখন বার্সেলোনার কোচ ছিলেন, সে সময়টিতে তার অধীনেই মেসি তার ক্যারিয়ারের সেরা সময় পার করেছেন। এ দুয়ের রসায়নেই অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছিল স্প্যানিশ কাতালান ক্লাব বার্সেলোনা।

বার্সেলোনা যা চায়: ক্লাব কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্পর্কে ফাটল ধরলেও মেসিকে ছেড়ে দিতে নারাজ বার্সেলোনা। আরও অন্তত একটি মৌসুম তারা মেসিকে চায়। দল ত্যাগের ইচ্ছা জানিয়ে চিঠি দেওয়ার পরও ক্লাবের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, দলের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া এখনো মেসিকে কেন্দ্র করেই ঘুরছে।

গত ২৬ আগস্ট বার্সেলোনার টেকনিক্যাল ডিরেক্টর র‌্যামন প্লেনস বলেন, ‘ইতিহাসের সেরা এই খেলোয়াড়কে সঙ্গে নিয়েই আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণ করতে চাই। ’ তিনি আরও বলেন, ‘চুক্তিবদ্ধ অবস্থায় মেসির দলত্যাগ করুক আমরা চাই না। আমরা চাই তিনি আমাদের সঙ্গে থাকবেন। আমরা তাকে যথেষ্ট সম্মান করি। কারণ তিনি পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ খেলোয়াড়। ’

বার্সেলোনার ২০ বছর বয়সী নতুন স্ট্রাইকার ফ্রান্সেসকো ত্রিনকোকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার অনুষ্ঠানে র‌্যামন প্লেনস এসব কথা বলেন। ক্লাব ও মেসির মধ্যে কোনো ধরনের বিতর্কের জন্ম হোক, এটাও তিনি চান না বলে জানান। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বার্সেলোনার কোটি কোটি ভক্তও চায়না মেসি দলবদল করুক।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছাড়াও ন্যু ক্যাম্পে বার্সেলোনা অফিসের সামনে গিয়ে মেসির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করছে তারা। ক্লাব সভাপতি বার্তেমিউয়ের পদত্যাগও দাবি করেছে তারা। ক্ষুব্ধ সমর্থকদের একটি অংশ বার্সেলোনার স্টেডিয়ামের ভেতরেও প্রবেশ করেছিল। পরে সেখান থেকে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। সমর্থকদের অনেকেই মেসির জার্সি গায়ে ন্যু ক্যাম্পে হাজির হচ্ছেন। এমনই একজন সমর্থক ওরিওল এজনার।

সাংবাদিকদের কাছে তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি সবার জন্যই অস্বস্তিকর। আরও অনেক আগের ক্লাবের বোর্ড পরিচালকদের পদত্যাগ করা উচিত ছিল। বাজে ফলাফল, বাজে ম্যানেজমেন্ট। এখানে কোনো কিছুই ইতিবাচক নয় আর। তারা ক্লাবটিকে ধ্বংসের শেষ কিনারে নিয়ে এসেছে। তাই মেসি এই দল ত্যাগ করতে চাইবেন, এটা খুব স্বাভাবিক। ’

মেসি-বার্সেলোনা সমার্থক: মেসি আর বার্সেলোনা একে অপরের সমার্থক হয়ে ওঠার গল্পটি শুরু আরও দুই দশক আগে ২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর। সেদিন তড়িঘড়ি করে একটি ন্যাপকিনের মধ্যেই সদ্য কৈশোরে পা রাখা মেসিকে ক্লাবের যুবদলের জন্য চুক্তিবদ্ধ করেছিলেন বার্সেলোনার তৎকালীন টেকনিক্যাল ডিরেক্টর চার্লস রেক্সাস।

সে সময়টিতে বিরল এক রোগে আক্রান্ত ছিলেন মেসি। তার গ্রোথ হরমোনের ঘাটতি ছিল। ফলে প্রত্যাশা অনুযায়ী তার উচ্চতা বাড়ছিল না। উচ্চতা একজন ফুটবলারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ফলে মেসির শরীরে কৃত্রিমভাবে গ্রোথ হরমোন প্রয়োগের প্রয়োজন ছিল।

কিন্তু এটি এত ব্যয়বহুল ছিল যে, কোনো আর্জেন্টাইন ক্লাব তা বহন করতে রাজি হয়নি। ন্যাপকিন পেপারে চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে এই ব্যয় বহন করতে রাজি হয় বার্সেলোনা। মেসির উচ্চতা বৃদ্ধির মিশনে টানা কয়েক বছর ৪০ হাজার পাউন্ড খরচ করেছে ক্লাবটি।

মেসিকে দলভুক্ত করতে মুহূর্তের সেই সিদ্ধান্তের ফল এখনো ভোগ করছে বার্সেলোনা। মেসির কল্যাণেই আজকের দিনে এক অপ্রতিরোধ্য পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ক্লাবটি। ২০০৬ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে মেসির পায়ের ওপর ভর করে অবিশ্বাস্য উত্থান ঘটে বার্সেলোনার। ক্লাবের মূল দলের হয়ে মেসির অভিষেক ২০০৪ সালের ১৬ অক্টোবর এসপানিওলের বিপক্ষে। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত বার্সেলোনার সময়টিকে ‘মেসি যুগ’ বললেও ভুল হবে না।

এ সময়ের মধ্যে ছয়বার ব্যালন ডি’অর জিতেছেন মেসি। তিনিই একমাত্র ফুটবলার, যিনি পেশাদার লিগে সবগুলো দলের বিপক্ষে টানা গোল করেছেন। ২০১১-১২ মৌসুমে টানা ১৯ ম্যাচে ৩০ গোল করার কীর্তি তার। এক মৌসুমে সবচেয়ে বেশি গোল করানোর রেকর্ডও তার।

২০১৯-২০ মৌসুমে সতীর্থদের দিয়ে ২১ গোল করিয়েছেন বার্সা অধিনায়ক। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে এল ক্ল্যাসিকোতে মেসির চেয়ে বেশি গোল করতে পারেননি আর কেউ। ২৬ গোল নিয়ে তিনি শীর্ষে। লা লিগায় মেসির চেয়ে বেশি হ্যাটট্রিক আর কারও নেই। চ্যাম্পিয়নস লিগেও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রোনালদোর সঙ্গে সমান আটটি করে হ্যাটট্রিক তার।

২০১১-১২ মৌসুমে লা লিগায় করেছেন রেকর্ড ৫০ গোল। সেই মৌসুমেই বার্সার হয়ে মেসির মোট গোল ছিল ৭৩টি। শুধু তাই নয়, ২০১২ সালে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে মেসির গোল ছিল ৯১টি। ফুটবলের আনুষ্ঠানিক যত প্রতিযোগিতা আছে, তাদের মধ্যে এক বর্ষপঞ্জিতে এত গোলের রেকর্ড আর কোনো ফুটবলারের নেই।

১২১ বছর আগে ১৮৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত বার্সেলোনা ক্লাব এখন পর্যন্ত যে ২৬টি লা লিগা শিরোপা জয় করেছে, তার মধ্যে ১০টিই এসেছে একবিংশ শতাব্দীতে। আরও সুনির্দিষ্ট করে বলা যায়, ওই ১০টি শিরোপা এসেছে মাত্র ১৪ বছরের মধ্যে, যখন মেসি ছিলেন ওই দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এখন পর্যন্ত পাঁচবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জয় করেছে বার্সেলোনা এর মধ্যে চারবার জয় এসেছে মেসির সময়ে।

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
https://bangladeshdawn.com/author/202006131592032